আপনার কম্পিউটারকে করে তুলুন সুপার কম্পিউটার, ২য় পর্ব – Graphic School

Blog

আপনার কম্পিউটারকে করে তুলুন সুপার কম্পিউটার, ২য় পর্ব

পূর্বের ব্লগ থেকে আমরা Advanced System Care Ultimate এর কিছু ফিচার আলোচনা করছিলাম এ পর্বে বাকি ফিচার সহ আরও কিছু বিষয় সম্পর্কে জানবো। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

  • System Control- আপনার সিস্টেমের বিভিন্ন সেটিং কন্ট্রোল করতে পারবেন এ টুলটির মাধ্যমে।
  • Disk Explorer-কোন প্রোগ্রামটি আপনার হার্ডড্রাইভ এ কত স্পেস খাচ্ছে তা জানতে পারবেন।
  • ClonedFilesScanner- আপনার হার্ডড্রাইভের স্পেস নষ্ট করে এরকম কতগুলো duplicate ফাইল আছে তা খুজে বের করে এবং ডিলিট করে।
  • Empty Folder Scanner- আপনার হার্ডড্রাইভ এর খালি ফোল্ডারগুলো খুজে বের করে এবং ডিলিট করে।
  • Manage My Mobile- এটা দ্বারা আপনি আপনার Android ফোনের Junk ফাইলগুলো ডিলেট ও মালওয়্যার রিমুভ করে আপনার ফোনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারবেন।
  • Programme Deactivator- এ টুলটি দিয়ে আপনি আপনার পিসিতে চলা যেকোনো রানিং প্রসেস বন্ধ করতে পারবেন।
  • Homepage Protection- মালওয়্যার অ্যাটাক করে যাতে আপনার হোমপেজের কোন পরিবর্তন যাতে না ঘটাতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখে এ টুলটি।
  • Start Menu 8- আপনি যেই অপারেটিং সিস্টেমই চালান না কেন আপনার পছন্দের স্টার্ট মেনুটি ফিরিয়ে আনবে এ টুলটি।

যেভাবে Advanced System Care ব্যাবহার করে পিসির সর্বোচ্চ পারফর্মেন্স পাবেনঃ

  1. নিচের মত Care বাটনে ক্লিক করুন এবং Security Defence বাদে সবগুলোতে টিক মার্ক দিয়ে সিলেক্ট করুন। এরপরে স্ক্যান আর Repair করুন।
  2. এরপরে Turbo Boost এ ক্লিক করে Configure এ ক্লিক করুন।
  3. Game Mode সিলেক্ট করে Next এ ক্লিক করুন।
  4. তারপরে দেখুন কোন প্রসেসগুলো আপনার দরকার আর কোনটি দরকার না। যেগুলো দরকার না সেগুলোতে টিক মার্ক দিন এবং Next এ ক্লিক করুন।
  5. আপনি যদি চান তাহলে সফটওয়্যারটির পাওয়ার প্লান ব্যাবহার করতে পারেন। এরপরে “Turn On Turbo Boost At Startup” এ টিক দিয়ে Apply এ ক্লিক করুন। এ সফটওয়্যারের কাজ আপাতত এখানেই শেষ। আপনি চাইলে অন্যান্য যে টুলগুলো আছে সেগুলো ঘেঁটে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

যেভাবে Auslogics boostspeed অ্যাক্টিভ করবেন

  • ভিতরে rtl160.bpl নামের একটা ফাইল আছে Crack ফোল্ডারের মধ্যে।ওটা কপি করে C:\Program Files\Auslogics\BoostSpeed(যদি আপনি C: ড্রাইভে উইন্ডোজ ইন্সটল করে থাকেন)- এই লোকেশনের মধ্যে পেস্ট করে রিপ্লেস করুন।

যেভাবে Auslogics boostspeed ব্যাবহার করে পিসির সর্বোচ্চ পারফর্মেন্স পাবেন

  1. প্রথমে নিচের মত Scan All বাটনে ক্লিক করুন।
  2. তারপরে এটি কিছুক্ষণ আপনার পিসির প্রবলেমগুলো খুজবে এবং খোজা শেষ হলে নিচের মত একটা ভিউ পাবেন। তখন Repair All বাটনে ক্লিক করুন। এটি নিজে নিজেই প্রবলেম সলভ করবে।
  3. এরপর নিচের মত System Stability তে ক্লিক করুন এবং আগের মত Scan এবং Repair করুন।
  4. নিচের ফটোর মত Disk Defrag এ ক্লিক করুন এবং ওখানে ডিফ্রাগ শুরু করুন।ডিফ্রাগ মোডে Defrag And Optimize এ ক্লিক করুন।
  5. ডিফ্রাগ শেষ হলে ঐ উইন্ডোটা বন্ধ করে আগের মেনুতে এসে Startup Manager এ ক্লিক করুন এবং যেসব প্রোগ্রামগুলো দরকারি না ঐগুলো Startup থেকে নিচের ফটোর মত একের পর এক ডিলেট করুন।
  6. এখন যেটা করবো সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। Tweak Manager এ ক্লিক করুন।এরপর User Interface বাদে প্রত্যেকটা মেনুর সাবমেনুতে ক্লিক করুন এবং OptimizeApply এ ক্লিক করতে থাকুন।কাজ শেষ হলে উইন্ডোটা ক্লোজ করে বেরিয়ে আসুন।
  7. Registry Cleaner এ ক্লিক করে Scan And Repair এ ক্লিক করুন। এটি Automatically ব্যাড রেজিস্ট্রিগুলো খুজে বের করবে এবং ক্লিন করবে।
  8. এরপরে Registry Defrag এ ক্লিক করে Analyze বাটনে ক্লিক করুন। Analyze করা শেষ হয়ে গেলে তখন দুটি অপশন দেখতে পাবেন।ওখান থেকে Defrag On Next Computer Bootup এ ক্লিক করুন। তাহলে এটি পরেরবার পিসি অন হওয়ার সময় রেজিস্ট্রিগুলো ডিফ্রাগ করবে।উইন্ডোটা ক্লোজ করে দিন।
  9. মেইন মেনু থেকে সিরিয়ালের ৩ নম্বরে থাকা OS Management এ ক্লিক করুন। Internet Optimizer এ ক্লিক করে আপনার ইন্টারনেট কানেকশন যেটা সেটা অপশন থেকে সিলেক্ট করে Analyze বাটনে ক্লিক করুন। এটাতে ক্লিক করার আগে সব ব্রাউজার ও ডাউনলোড বন্ধ করে দিন। Analyze শেষ হয়ে গেলে Optimize এ ক্লিক করুন। এ সফটওয়্যারের কাজ আপাতত এখানেই শেষ। তারপরেও যারা আগ্রহী তারা বাকি টুলগুলো ওপেন করে ব্যাবহার করে দেখতে পারেন।

৬।। পিসি নিয়মিত ডিফ্রাগ করাঃ

এটা কম্পিউটার এর পারফরমেন্স বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ধাপ। আমার মতে পিসি প্রতি ২-৩ দিন পরপরই ডিফ্রাগ করা উচিত। কারণ ডিফ্রাগের মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার এর ভেতরের যেসব আউলাঝাউলা ফাইলগুলা আছে সেগুলা সুসজ্জিত হয়। এর ফলে হার্ডডিস্ক এর ভেতরের ফাইলগুলোকে খুব তারাতারি রিড করতে পারে। ফলে পিসি হয়ে যায় সুপার ফাস্ট। উপরে আমি যে ইউটিলিটি সফটওয়্যারগুলোর কথা ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যেও নিজস্ব ডিফ্রাগ সফটওয়্যার আছে। তবে আমি ওগুলোর পাশাপাশি আরো একটি সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে বলব। সেটি হচ্ছে

এটার কাজ মূলত হার্ডডিস্কের প্রবলেম সলভ করা। কিন্তু এটিতে একটা Built-In ডিফ্রাগার আছে যেটা অন্য যে কোন ডিফ্রাগ সফটওয়্যারের চেয়ে অনেকগুন ভালো। এছাড়া সফটওয়্যারটি হার্ডডিস্ক রিলেটেড বিভিন্ন ইনফরমেশন দেখায়।

যেভাবে সফটওয়্যারটি অ্যাক্টিভ করবেনঃ

  • প্রথমে সফটওয়্যারটি ইন্সটল করুন। ইন্সটল ঠিকমতো শেষ হলে সফটওয়্যারটি ওপেন করবেন না। ভেতরে Registration.reg নামের যে ফাইলটি আছে ওইটা ডাবল ক্লিক করে ওপেন করুন এবং তারপরে Yes বাটনে ক্লিক করে বেরিয়ে আসুন।

যেভাবে সফটওয়্যারটি ইউজ করবেন-

  • প্রথমে সফটওয়্যারটি ওপেন করার পরে  একটা সিম্পল ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।এখানে আপনার হার্ডডিস্কের সব বেসিক ইনফরমেশন যেমন হার্ডডিস্কের হেলথ,পারফরমেন্স ও তাপমাত্রা দেখতে পাবেন। নিচের মত Defrag এ ক্লিক করুন।এরপরে নিচের স্ক্রিনশটের মত ড্রাইভগুলো সিলেক্ট করে Intelligent Defragmentation মোড এ ডিফ্রাগ করুন। এর পাশাপাশি Proactive Defrag Active করে দিন। যার মাধ্যমে এটি হিডেন মোডে থেকে আপনার কম্পিউটারকে ডিফ্রাগ করতে থাকবে। এ সফটওয়্যারে আর কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নেই।

৭। রেজিস্ট্রি রিমুভ করাঃ

রেজিস্ট্রি হচ্ছে উইন্ডোজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট। এর মধ্যেই পিসির সব ইনফরমেশন জমা থাকে।যখন আপনি কোন সফটওয়্যার/ড্রাইভার ইন্সটল/আনইন্সটল করেন তখন রেজিস্ট্রিতে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন ঘটে। ফলে আপনার কম্পিউটারের বুট-আপ স্লো হয়ে যায় এবং ভিতরের বিভিন্ন প্রোগ্রামের চালু হওয়াটাও স্লো হয়ে যায়। তাই আমি ইউটিলিটি সফটওয়্যার এর রেজিস্ট্রির পাশাপাশি আলাদা একটি সফটওয়্যার ইউজ করতে বলব। কারণ এটি আপনার কম্পিউটারের রেজিস্ট্রির খুঁটিনাটির কেয়ার করবে।ফলে কম্পিউটারও হবে অনেক ফাস্ট।সফটওয়্যারটি হচ্ছেঃ

যেভাবে সফটওয়্যারটি অ্যাক্টিভ করবেন-

  • ভেতরে Cracked ফোল্ডার থেকে আপনার অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী(৩২ বিট হলে x86 এর ফাইলটি আর ৬৪ বিট হলে  x64 এর ফাইলটি কপি করুন।)ফাইলটি কপি করে C:\Program Files\ReviverSoft\Registry Reviver(যদি আপনি C: ড্রাইভে উইন্ডোজ ইন্সটল করে থাকেন)-এর মধ্যে পেস্ট এবং রিপ্লেস করুন।

যেভাবে সফটওয়্যারটি ইউজ করবেন-

  • প্রথমে সফটওয়্যারটি ওপেন করুন। নিচের মত একটা ইন্টারফেস পাবেন। ওখানে অপরে Scan এ ক্লিক করে যতগুলি অপশন আছে সবগুলিতে টিক মার্ক দিয়ে দিন। এরপরে Begin Error Scan এ ক্লিক করুন। এরপর স্ক্যান শেষ হয়ে গেলে সবগুলি এরর সিলেক্ট করে Repair Selected Errors এ ক্লিক করুন।

৮। ল্যাপটপ/নেটবুক এর ব্যাটারির যত্ন নেয়াঃ ব্যাটারি হচ্ছে ল্যাপটপ/নেটবুক এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট। মূলত এই ব্যাটারির সাথে ল্যাপটপের অন্য কম্পোনেন্টগুলোর যোগসুত্র আছে। তাই একটি নষ্ট হলে আরেকটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।তাই ল্যাপটপের ব্যাটারির যত্ন নিতে হবে। ল্যাপটপ যদি আপনি ১/২ মাসের জন্য বন্ধ রাখেন তাহলে এর ব্যাটারিটা খুলে রাখবেন। আর প্রথমবার ল্যাপটপ কেনার পরই ল্যাপটপ বন্ধ করে ফুল চার্জ দিবেন। এতে ব্যাটারিটা ভালো থাকবে। আর অনেকে আছেন যারা ল্যাপটপের চার্জ শেষ হয়ে যাবে এই ভয়ে সারাক্ষণ এতে চার্জ দিয়ে রাখেন। এতে ল্যাপটপের ব্যাটারির পাশাপাশি হার্ডডিস্কও নষ্ট হতে পারে।তাই এটা কখনই করা উচিৎ না।

অভিজ্ঞদের মতামতঃ

১। পিসি ডেস্কটপে সবসময় কম শর্টকাট রাখার চেষ্টা করবেন। আর যদি বেশি বেশি সফটওয়্যার ইন্সটল দেয়ার ফলে অনেক শর্টকাট ডেস্কটপে এসেই পরে সেক্ষেত্রে একটা ফোল্ডার বানান। যে প্রোগ্রামগুলো সচরাচর ইউজ করবেন সেটা ডেস্কটপে রাখুন আর যেগুলো মাঝে মাঝে করবেন সেগুলো ঐ ফোল্ডারের মধ্যে রাখুন।

২। অনেককেই দেখা যায় টাস্কবারে ৪/৫টা অ্যাপ্লিকেশন পিন করে রেখেছেন। এটা করা উচিত নয়। কারণ এগুলো প্রচুর মেমোরি খায়। আর যদি আপনার কম্পিউটার লো কনফিগারেশনের হয়ে থাকে তাইলে তো বেহাল অবস্থা হয়ে যাবে।

আশা করি ব্লগটি আপনারা উপকৃত হয়েছেন। চাইলে আপনারা ব্লগটি সবার উদ্দেশ্যে শেয়ার করতে পারেন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। সভাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment