আপনার কম্পিউটারকে করে তুলুন সুপার কম্পিউটার, ১ম পর্ব - Graphic School

Blog

আপনার কম্পিউটারকে করে তুলুন সুপার কম্পিউটার, ১ম পর্ব

কম্পিউটার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের অনেক জটিল কাজকে সহজ করে দিয়েছে। কেউ কেউ আছেন যারা কম্পিউটার ছাড়া একদিনও চলতে পারবেন না আর এটাই আমাদের আধুনিক জেনারেশনের বাস্তবতা। প্রত্যেকদিন আমাদের বিভিন্ন রকম কাজকর্ম করতে হয়। কেউ আছেন প্রফেশনাল ব্লগার, কেউবা ফ্রিলান্সার,কেউবা ওয়েবসাইট ডিজাইন এর কাজ করেন আবার কেউবা প্রফেশনাল গেমার। এর মানে যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের এসব কাজকর্মের ফলে কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়াটা অনেক স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু কিছু নিয়ম ফলো করলে আমাদের কম্পিউটারকে আমরা করে নিতে পারি নতুন কেনা কম্পিউটারের মতো সচল। আমি যা লেখছি তা যদি পুরোপুরি ফলো করতে পারেন তাহলে আপনার পিসি হয়ে উঠবে আপনার আগের সেই সচল কম্পিউটারের মতো। সো এখানেই মূল টিউন শুরু করলাম।

১। উইন্ডোজ সেটআপ দেওয়াঃ

মাইক্রোসফট বাজারে বিভিন্ন রকম উইন্ডোজ এনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ

  • উইন্ডোজ ৮/৮.১
  • উইন্ডোজ ৭
  • উইন্ডোজ এক্সপি
  • উইন্ডোজ ৯৮
  • উইন্ডোজ ৯৫

এছাড়াও ম্যাক, লিনাক্সের মতো নামিদামি অপারেটিং সিস্টেম তো আছেই। কারো হয়তো অন্যটা পছন্দ। কারণ কার্যক্ষমতার দিক থেকে বিবেচনা করলে সিরিয়ালের নিচেরগুলো অনেক বেশি ফাস্ট। আমার মতে যারা হাই কনফিগারেসন পিসি ইউজ করেন তাদের জন্য উইন্ডোজ ৮.১/৮/৭ ভালো হবে। আর যারা লো কনফিগারেসন পিসি ইউজ করেন তাদের জন্য উইন্ডোজ ৭ কিংবা এক্সপি বেষ্ট হবে। আর উইন্ডোজ ইন্সটল এর পরে সর্বপ্রথম আপনার করনীয় হচ্ছে মাদারবোর্ডের ড্রাইভার ইন্সটল করা। উইন্ডোজ ৭/৮ এ অবশ্য ড্রাইভার সেটআপ দেয়ার সময়ই ইন্সটল হয়ে যায়। তাই আর আলাদা ড্রাইভার ইন্সটল করার প্রয়োজন হয় না।

২। যে সফটওয়্যার গুলো সেটআপের পরেই ইন্সটল করা বাধ্যতামূলকঃ

কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো ছাড়া আমাদের পিসি অচল। তাই এগুলো সেটআপের পরেই ইন্সটল দিন। এরকম কিছু সফটওয়্যারের নাম নিচে দিলাম-

  • Rar, Zip, Iso ফাইল খোলা
  • মালটিমিডিয়া প্লেয়ার
  • ব্রাউজিং সফটওয়্যার
  • ডাউনলোড হেল্পার
  • ইবুক ও পিডিএফ ফাইল খোলা
  • মাইক্রোসফট অফিস (যাদের নিয়মিত টাইপিং করতে হয়)
  • বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
  • ফটো এডিটিং সফটওয়্যার (Adobe Photoshop)

৩। এন্টিভাইরাস ব্যবহার করাঃ

এত বেশি এন্টিভাইরাস কোম্পানি আছে যে আমরা চিন্তায় পরে যাই যে কোন এন্টিভাইরাসটি ব্যবহার করবো। তবে এটা নিয়ে এত মাথা না ঘামানোই ভালো। কারণ সব এন্টিভাইরাস কোম্পানিই ভাইরাস প্রতিরোধের জন্যই তাদের এন্টিভাইরাস বের করেছে বাজারে। তবে ফ্রি হোম এডিশন এন্টিভাইরাসগুলো ব্যবহার করতে পারেন। আর আলাদা এন্টিভাইরাস চালাতে না চালালে আপনি Advanced System Care এর Ultimate ভার্সনটি চালাতে পারেন।

8। Utility সফটওয়্যার ব্যবহার করাঃ

বাজারে বিভিন্ন রকম ইউটিলিটি সফটওয়্যার আছে যেগুলো কম্পিউটার অনেক ফাস্ট করতে সক্ষম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- Auslogics Boostspeed. এ সফটওয়্যারটি বাজারের অন্য সফটওয়্যারের থেকে অনেক ভালো। এককথায় জটিল একটা সফটওয়্যার। তবে আপনি যদি আলাদা এন্টিভাইরাস না চান তাহলে আপনি Advanced System Care এর Ultimate ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এ সফটওয়্যারটি Bitdefender Antivirus এর Built-ইন ইঞ্জিন ব্যবহার করেছে। তাই আলাদা কোন এন্টিভাইরাসের একদমই কোন প্রয়োজন হবে না। আর এটিতে আরো অনেকগুলো ইউনিক ফিচার আছে।

তাহলে চলুন জেনে নিই যেভাবে Advanced System care Ultimate অ্যাক্টিভ করবেনঃ

  • প্রথমে Advanced Sysytem Care ও এর সকল টুলগুলো ফোল্ডার থেকে একের পর এক ইন্সটল করতে থাকুন। এরপর এটি অটোম্যাটিক চালু হবে। সফটওয়্যারটির ভেতরের অপশন থেকে এন্টিভাইরাসের ডাটাবেস আপডেট করে নিন। আপডেট শেষ হলে Real Time Protection আর সাইলেন্ট মোড অফ করে দিন নিচের ফটোর মতো। তারপরে ভেতর থেকে Patch টি ওপেন করুন। Backup এ টিক মার্ক দিয়ে Patch বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার ইন্টারনেটের কানেকশনটি বন্ধ করে সফটওয়্যারটি ওপেন করে Manage License নামের অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করে ভেতরে দেয়া সিরিয়াল নাম্বার বসাতে হবে। দেখবেন যে সফটওয়্যারটি ৩৬৫ দিনের জন্য অ্যাক্টিভ হয়ে গেছে। এরপর যে টুলগুলোর জন্য আমি সিরিয়াল কি দিয়েছি সেগুলো বসিয়ে দিয়ে টুলগুলো Pro ভার্সন করে নিন। আর বাকি টুলগুলো এমনিতেই ফ্রি। সো কাজ শেষ হয়ে গেলে ইন্টারনেটের কানেকশনটি অন করুন। আর Real Time Protection আর সাইলেন্ট মোডও অন করুন।

এবার নিচে Advanced System Care Ultimate এর ফিচারগুলো একনজরে দেখে নিন-

  • Iobit Antivirus-এ অ্যান্টিভাইরাসটিতে Bitdefender Antivirus এর ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যা আপনার কম্পিউটারকে সব রকম ভাইরাস থেকে প্রটেক্ট করবে।
  • Iobit Uninstaller-এটি রেজিস্ট্রিসহ যে কোন প্রোগ্রাম uninstall করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • Registry Cleaner-এটি কম্পিউটারে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় registry গুলো রিমুভ করতে সাহায্য করে।
  • Disk Cleaner-এটি আপনার কম্পিউটারের অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ডিলিট করে হার্ডড্রাইভ এর ফ্রী স্পেস বাড়াতে সহায়তা করবে।
  • File Shredder-এটি এমন একটি প্রোগ্রাম যার সাহায্যে কোন ফাইল ডিলিট করলে তা আর রিকভার করতে পারবেন না।
  • Smart Ram-এ অপশনটির মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারের Ram ক্লিয়ার করে এর কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  • Internet Booster-কম্পিউটারের বিভিন্ন কনফিগারেশন সেটিং করে ইন্টারনেট স্পীড বৃদ্ধি করবে।
  • Startup Manager-অনেক সময় কম্পিউটার চালু হবার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু প্রোগ্রাম চালু হয়ে যায়। এ সব প্রোগ্রাম থেকে নিস্তার পাবার অর্থাৎ এগুলো বন্ধ করবার টুল এটি।
  • Registry Defrag-কম্পিউটারের রেজিস্ট্রি Defrag করে স্পীড বৃদ্ধি করবে এটি।
  • Smart Defrag-এটি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় টুল। এটি পুরো কম্পিউটার Defrag করে। Defrag করার পরে আপনার কম্পিউটারের স্পীড অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
  • Game Booster-এই গেম বুস্টার টুলটি গেম খেলার সময় ওপেন করবেন। এটি আপনার কম্পিউটারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিবে।ফলে দারুন স্পীডে গেম খেলা যাবে।
  • Undelete-ফাইল রিকভার করার টুল এটি। ডিলিট করা অনেক ফাইল ফিরিয়ে আনতে পারবেন।
  • Shortcut Fixer-ব্রোকেন শর্টকাট ফিক্স করে এটি।
  • Disk doctor-হার্ডড্রাইভ এর এরর চেক করে এবং পেলে তা সলভ করে।
  • Win Fx-এটি অপারেটিং সিস্টেম এর বিভিন্ন পরিচিত প্রবলেম গুলো সলভ করে।
  • IE helper-এটির মাধ্যমে Internet Explorer এর বিভিন্ন কনফিগারেশন ঠিক করতে পারবেন।
  • SysExplorer-আপনার কম্পিউটারকে স্লো করছে কি কি জিনিস তা জানার জন্য পুরো কম্পিউটারের সিস্টেম analysis করে। পরে তা রিপোর্ট আকারে প্রদান করে।
  • Process Manager-আপনার সিস্টেম এ কোনসব প্রোগ্রাম চলছে এবং কোনটার priority কেমন তা জানার টুল এটি।
  • Driver Manager-এটি কম্পিউটার ড্রাইভার আপডেট ও ব্যাকআপ করতে ব্যবহার করা হয়।
  • Iobit Unlocker-আমাদের কম্পিউটারে এমন কিছু ফাইল আছে যা আমরা ডিলিট করতে পারি না। কারন ওইসব ফাইলগুলি অন্য রানিং প্রোগ্রাম use করে। ওই ফাইলগুলি আনলক করে ডিলিট করে এ টুলটি।
  • Auto Shutdown-শিডিউল ঠিক করে দিলে ঠিক সেই সময়ে আপনার কম্পিউটার বন্ধ করে এ টুলটি।
  • System Information– আপনার সিস্টেমের detail ইনফর্মেশন দেখায় এ টুলটি।

আশা করি আপনি উপরের টিপস গুলো পড়ে উপকৃত হয়েছেন। এর পরের পার্টে আরও ভালো কিছু নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো। সে পর্যন্ত গ্রাফিক স্কুলের সাথেই থাকুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment