এডোবি আফটার ইফেক্ট এ অজানা কিছু কাজ - Graphic School

Blog

এডোবি আফটার ইফেক্ট এ অজানা কিছু কাজ

এডোবি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত এডোবি আফটার ইফেক্টের কাজ সম্পর্কে সবাই অবশ্যই অবগত আছেন। কিন্তু আজকে আমরা কথা বলবো এডোবি আফটার ইফেক্টের অজানা কিছু কাজ নিয়ে। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে মুল আলোচনার আসা যাক।

প্রথমে আমরা কথা বলবো এনিমেটেড আলোর ইফেক্ট নিয়েঃ

ছবির মত এনিমেটেড আলোর ইফেক্ট নিশ্চয়ই দেখেছেন বহু যায়গায়। আফটার ইফেক্টস ব্যবহার করে খুব সহজে এধরনের ইফেক্ট তৈরী করতে পারেন। এজন্য Trapcode এর তৈরী Shine নামে একটি প্লাগইন ব্যবহার করা হয়েছে।

আপনি আলোর রেখা দেখাতে পারেন বিশেষ লেয়ার তৈরী করে সেখানে (যেমন এখানে টেক্সট লেয়ার ব্যবহার করা হয়েছে) অথবা সরাসরি কোন ইমেজ বা ভিডিও থেকেই তারসাথে মিল রেখে আলোকরশ্মি তৈরী করতে পারেন।

  • উদাহরনের মত ফটোশপে লেখাকে তৈরী করে নিন।
  • আফটার ইফেক্টস প্রোজেক্টে ইমপোর্ট করুন।
  • ট্রাপকোড সাইট ইফেক্ট প্রয়োগ করুন। সাথে সাথে ইফেক্ট দেখা যাবে।
  • ইফেক্ট কন্ট্রোল প্যানেল থেকে নিচের পরিবর্তনগুলো করুন

Source point: আলোর কেন্দ্রবিন্দু ঠিক করার জন্য। বাল্ব বা মোমবাতি থেকে আলো বের হচ্ছে দেখানোর জন্য সেখানে ব্যবহার করতে পারেন। একে এনিমেট করা যাবে।

Ray Length: আলোর দৈর্ঘ্য বলে দেয়ার জন্য। একেও এনিমেট করে আলোর বৃদ্ধি বা হ্রাস দেখানো যেতে পারে।

Boost Light: আলোর উজ্জ্বলতা কমবেশি দেখানোর জন্য।

Colorize: আলোর রং পরিবর্তনের জন্য।

Source Opacity: মুল লেয়ারের অপাসিটি কমবেশি করার জন্য। অপাসিটি শুন্য (০) করে উদাহনের লেখাটি অদৃশ্য করে শুধুমাত্র আলোকরশ্মি দেখার ব্যবস্থা করা  যেতে পারে।

Shine Opacity: আলোর অপাসিটি কমবেশি করার জন্য।

Transfer mode: ফটোশপ লেয়ার ইফেক্টের মত লেয়ার ইফেক্ট পরিবর্তনের জন্য।

ভিডিওতে টাইটেল ছাড়াও বিভিন্ন যায়গায় টেক্সট ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়। যেহেতু ভিডিও, সেহেতু টেক্সটও এনিমেটেড হলে নিশ্চয়ই আকর্ষনীয় হয়। যেমন টিভি বিজ্ঞাপন, কিংবা ভিডিও ডকুমেন্টারী। অনেকে এজন্য ফ্লাশ এনিমেশন পছন্দ করেন। যেমন SwishMax ব্যবহার করে খুব সহজে ফ্লাশ টেক্সট এনিমেশন তৈরী করা যায়, ফলে এই সফটওয়্যার বেশ জনপ্রিয়।

এডোবি আফটার ইফেক্টে টেক্সট এনিমেশনঃ

আপনি ফ্লাশ টেক্সট এনিমেশনের এই কাজ খুব সহজে করে নিতে পারেন আফটার ইফেক্টস ব্যবহার করে। এজন্য আফটার ইফেক্টস এর সাথে রয়েছে অনেকগুলো প্রিসেট। আর একেবারে নিজের পছন্দমত টেক্সট এনিমেশনের ব্যবস্থা তো রয়েছেই। প্রিসেট ব্যবহার করে ফ্লাশের মত এনিমেটেড টেক্সট কিভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।

ফ্লাশ টেক্সট এনিমেশনঃ

  • কম্পোজিশন তৈরী করুন
  • টেক্সট তৈরীর জন্য টেক্সট টুল ব্যবহার করে টাইপ করুন।
  • টেক্সটটি সিলেক্ট করুন। এনিমেশন সিলেক্ট করা টেক্সটে ব্যবহৃত হবে। সিলেক্ট করা না থাকলে নতুন টেক্সট লেয়ার তৈরী হবে।
  • প্যানেল থেকে টেক্সট এর জন্য প্রিসেট সিলেক্ট করুন। প্রিভিউ দেখে সহজে ব্যবহারের জন্য ফ্লাই-আউট মেনু থেকে Browse Preset সিলেক্ট করুন। টেক্সট এর জন্য প্রিসেট ফোল্ডারে গেলে এনিমেশনগুলোর প্রিভিউ দেখা যাবে।
  • পছন্দের প্রিসেট এর ওপর ডাবল-ক্লিক করুন। ইফেক্ট টেক্সট লেয়ারে ব্যবহৃত হবে এবং টাইমলাইনে যেখানে টাইম ইন্ডিকেটর অবস্থান করছিল সেখান থেকে এনিমেশন শুরু হবে।

এরসাথে মোশন ব্লার ইত্যাদি ব্যবহার করে আরো আকর্ষনীয় করতে পারেন।

সাউন্ডবুথঃ

এডোবি সাউন্ডবুথ এডোবি ক্রিয়েটিভ স্যুইট এর সাথে দেয়া একটি সফটওয়্যার। এডোবি সাউন্ডবুথ ব্যবহার করে সাউন্ড রেকর্ড, এডিট, অপটিমাইজ এবং এনহ্যান্স সব কাজই করা যাবে। এনালগ অথবা ডিজিটাল অডিও যাই হোক না কেন, মনো, ষ্টেরিও কিংবা ৫.১ অডিও, এদেরকে পৃথক পৃথক ট্রাকে রেখে প্রত্যেকেকে আলাদাভাবে কন্ট্রোল করার সুযোগ রয়েছে এই সফটওয়্যারে।

অডিও এডিটিং এর প্রাথমিক কাজ, ট্রিমিং, ফেডিং, প্যানিং ইত্যাদি কাজ তো বটেই, সাউন্ডে যদি ক্লিক থাকে সেটাও দুর করা যায় সহজেই। যেমন রেকর্ডিং এর সময় যদি মোবাইল ফোনের শব্দ রেকর্ড হয় সেটা বাদ দেয়া যাবে। সেইসাথে অডিওকে স্পেশাল ইফেক্ট দিতে চাইলে সে ব্যবস্থাও রয়েছে। রিভার্ব, ডিসটর্শন ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে খুব সহজে।

যদি প্রফেশনাল স্টুডিওতে আলাদা আলাদা ভাবে রেকর্ড করা হয় তাহলে ভোকাল, বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্টালকে মাল্টিট্রাক হিসেবে নিয়ে একসাথে কাজ করা যায় খুব সহজেই। প্রত্যেককে পৃথকভাবে কন্ট্রোল করা যাবে।

সেইসাথে রয়েছে শতাধিক সাউন্ড স্কোর ব্যবহারের সুযোগ। খুব সহজেই সাইন্ডলুপ তৈরী করতে পারেন। অটোমেটিক বিট ডিটেকশন থাকায় কাজটি করা অনেক সহজ। এমনকি টেক্সট টু স্পিচ ফিচার ব্যবহার করে টেক্সট থেকে সাউন্ড ফাইল তৈরী করতে পারেন।

সাউন্ডবুথ এর একটি বড় সুবিধা একে ব্যবহার করা যায় এডোবি প্রিমিয়ার, আফটার ইফেক্টস এবং ফ্লাশ এর ভেতর থেকে। ফলে ভিডিও এডিটিং কিংবা এনিমেশন করার সময় সাউন্ড ব্যবহারের কাজ অনেক সহজ হয়। সাউন্ডবুথের ভেতরেই ভিডিও ফাইল ওপেন করে অডিও এডিট করা যায়। ভিডিও এর সাথে অডিও এর মিল করার কাজ তাই অনেক সহজ।

প্রাথমিক কিছু কাজ করে দেখা যাকঃ

ফাইল ওপেন করাঃ

সাউন্ডবুথ অনেকগুলো অডিও-ভিডিও ফরম্যাট সাপোর্ট করে। এদেরকে আনার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে, ওপেন এবং ইমপোর্ট। নাম এবং পদ্ধতি ভিন্ন হলেও শেষফল একই।

  • সাউন্ড বুথ ওপেন করুন
  • মেনু থেকে ফাইল – ওপেন কমান্ড দিন।
  • যে ফোল্ডার থেকে ফাইল ওপেন করতে চান সেখানে যান এবং ফাইলটি সিলেক্ট করুন।
  • ওপেন বাটনে ক্লিক করুন।

অডিও (অথবা ভিডিও) ফাইলটি দুযায়গায় পাওয়া যাবে। বামদিকে ফাইল প্যানেলে ফাইলের নাম এবং ডানদিকে এডিটিং প্যানেলে ওয়েবফর্ম হিসেবে।

  • ওপেন এর বদলে ইমপোর্ট কমান্ড ব্যবহার করলে ফাইলটি শুধুমাত্র ফাইল প্যানলে পাওয়া যাবে।
  • ফাইল প্যানেলে ডাবল ক্লিক করে যে কোন ফাইলকে এডিটিং প্যানেলে ওপেন করা যাবে।

ট্রিমিংঃ

  • শব্দের শুরু বা শেষ থেকে কিছু অংশ বাদ দেয়াকে বলে ট্রিমিং। সাউন্ড এডিটিং এর এটাই প্রথম কাজ।
  • সাউন্ডকে এডিটিং প্যানেলে ওপেন করুন।
  • ওয়েভের বামদিকের প্রান্তের মাঝামাঝি Trim Beginning নামে একটি হ্যান্ডলার দেখা যাবে। একে ড্রাগ করে শুরু থেকে যতটুকু বাদ দিতে চান সেপর্যন্ত আনুন। মাউস ছেড়ে দেয়ার সাথেসাথেই সেই অংশটুকু বাদ যাবে।
  • ডানদিকের হ্যান্ডলার ব্যবহার করে কোথায় শেষ হবে সেটা নির্দিষ্ট করে দিন।
  • কোন ভুল হলে সেটা বাতিল করার জন্য Ctrl – Z চাপ দিন।

ভলিউম কমবেশি করাঃ

সাউন্ড এডিটিং এর ক্ষেত্রে ভলিউম কমবেশি করা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি কাজ। মুল শব্দের কোথাও অতিরিক্ত জোড়ারো থাকতে পারে, কোথাও কম থাকতে পারে। যেকারনে কোথাও বাড়ানো প্রয়োজন হয়, কোথাও কমানো প্রয়োজন হয়।

  • যে অংশটুকু ভলিউম পরিবর্তন করতে চান মাউস ড্রাগ করে সেটুকু সিলেক্ট করুন।
  • সিলেক্ট করা অংশের ওপরে মাঝখানে একটি ছোট উইন্ডোতে +0,0 dB লেখা একটি অংশ দেখা যাবে। মাউস ড্রাগ করে বামদিকে নিয়ে এই মান কমানো যাবে বা ডানদিকে সরিয়ে মান বাড়ানো যাবে। ফল হিসেবে শব্দের ভলিউম কমবে বা বাড়বে।

ইকুয়ালাইজঃ

অনেক সময়ই শব্দের ভলিউম লেভেল কোথাও বেশি কোথাও কম থাকে। প্রতিটি যায়গা কমানো বা বাড়ানোর বদলে একবারে পুরো ফাইলের ভভিউম লেভেলকে সমমানের করা যায়।

  • মেনু থেকে সিলেক্ট করুন, Process – Equalize Volume Levels
  • অথবা এডিটিং প্যানেলে ইকুয়ালাইজ বাটনে ক্লিক করুন।

পুরো শব্দ থেকে অতিরিক্ত ভলিউম যেমন কমবে তেমনি কম ভলিউমের অংশগুলো বৃদ্ধি পেয়ে সমমানের হবে।

আশা করি আমার ব্লগটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন। এরকম ব্লগ পড়তে গ্রাফিক স্কুলের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment