এডোবি প্রিমিয়ার প্রো নিয়ে কিছু কথা - Graphic School

Blog

এডোবি প্রিমিয়ার প্রো নিয়ে কিছু কথা

এডোবি প্রিমিয়ার ব্যবহার করেন সৌখিন এবং পেশাদার ভিডিও এডিটর প্রত্যেকেই। পেশাদারদের পছন্দ কারন অন্যান্য পেশাদারী সফটওয়্যারের মত এতে বিশেষ হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হয় না। সেইসাথে প্রো থেকে সিএস ভার্শনে আসার পথে পেশাদারী এডিটিং এর যাকিছু প্রয়োজন সবই যোগ করা হয়েছে। এডোবি ফটোশপ, আফটার ইফেক্টস, সাউন্ডবুথ ইত্যাদির সাথে কাজ করে খুব ভালভাবে।

আর সৌখিন এডিটটরা ব্যবহার করেন কারন এই সফটওয়্যারের ব্যবহার সহজ। ব্যক্তিগত ভিডিও থেকে শুরু করে বিয়ে-জন্মদিন-সেমিনার-ডকুমেন্টারী ইত্যাদি বানিজ্যিক কাজ করা যায় এখান থেকেই। এর রয়েছে অসংখ্যা প্লাগইন। বলিউড, হলিউড ইফেক্টস থেকে শুরু করে জনপ্রিয় বহু ট্রানজিশন-ইফেক্ট ব্যবহার করা যায় এতে। ডিভিডি তৈরীর জন্য এডোবি এনকোর সফটওয়্যারে সরাসরি প্রিমিয়ার প্রোজেক্ট ব্যবহার করা যায়।

প্রিমিয়ার ব্যবহার করে ভিডিও এডিটিং এর মুল কাজগুলো কিভাবে করতে হয় জেনে নিনঃ

প্রিমিয়ার প্রজেক্ট শুরু করাঃ

এডোবি প্রিমিয়ার সফটওয়্যার চালু করার সময় যে কাজ করবেন সেই কাজ অনুযায়ী কিছু বিষয় ঠিক করে দিতে হয়। সহজ কথায়, আপনাকে একটি প্রোজেক্ট শুরু করতে হয়। সেই প্রোজেক্টের নাম, ফোল্ডার, ভিডিওর ধরন, ভিডিওর মাপ ইত্যাদি বলে দিতে হয় শুরুতেই।

  • প্রিমিয়ার চালু করলেWelcome to Adobe Premiere নামে এধরনের একটি স্ক্রিন পাওয়া যাবে
  • যদি আগে কোন কাজ করেন তার নামের একটি তালিকা পাওয়া যাবে। সরাসরি সেই নামে ক্লিক করে সেটা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াOpen Project ক্লিক করে আগে করা অন্য প্রোজেক্ট ওপেন করতে পারেন। অথবা New Project ক্লিক করে নতুন প্রোজেক্ট শুরু করবেন।

New project সিলেক্ট করলে এধরনের একটি ডায়ালগ বক্স পাওয়া যাবে।

 

এখানে টাইটেল এবং একশন সেফ এরিয়া (যে যায়গায় থাকলে টিভিতে বাদ পরবে না) সহ ভিডিও এবং অডিও টাইমলাইনে কিভাবে দেখাবে, ক্যাপচার কোথা থেকে করবেন ইত্যাদি বলে দেয়া যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন কাজ হচ্ছে নিচের অংশে লোকেশন এবং নাম ঠিক করে দেয়া। কাজের সময় প্রিমিয়ার বেশকিছু ফাইল তৈরী করে। সেগুলোর জন্য যে ফোল্ডার ব্যবহার করতে চান সেটা সিলেক্ট করুন এবং প্রোজেক্টের একটি নাম টাইপ করে দিন।

এরপর আরেকটি ডায়ালগ বক্স পাওয়া যাবে New Sequence নামে। এখানে ফাইনাল ভিডিওতে ব্যবহৃত ভিডিওর মাপ, অডিও স্যাম্পল রেট ইত্যাদি ঠিক করে দেবেন। এখানে ৩টি ট্যাব রয়েছে। Sequence Preset থেকে সরাসরি প্রিসেট থেকে সিলেক্ট করতে পারেন, General ট্যাব থেকে নিজের পছন্দমত পরিবর্তন করে নিতে পারেন এবং Tracks ট্যাব থেকে ভিডিওর কতগুলো ট্রাক ব্যবহার করবেন, অডিওর চ্যানেল ইত্যাদি বলে দিতে পারেন।

এখানে কোন পরিবর্তন করলে তাকে নতুন প্রিসেট হিসেবে সেভ করে রাখতে পারেন। এছাড়া সিকোয়েন্স এর জন্য কাজের সাথে মিল রেখে নাম ব্যবহার করতে পারেন।

ওকে বাটনে ক্লিক করলে এখানে দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রোজেক্ট শুরু হবে এবং প্রিমিয়ারের মুল স্ক্রীন পাওয়া যাবে।

প্রিমিয়ার স্ক্রীন পরিচিতিঃ

ফুটেজঃ

প্রিমিয়ারের মুল স্ক্রীনে প্রধান কয়েকটি অংশ রয়েছে। এদের মধ্যে ফুটেজ লাইব্রেরী ব্যবহার করা হয় ফুটেজ (ভিডিও, অডিও, ষ্টিল ইমেজ) ইমপোর্ট এবং সেখান থেকে ব্যবহারের জন্য। যে কোন ফুটেজ ব্যবহারের আগে সেটা ইমপোর্ট কমান্ড ব্যবহার করে এখানে আনতে হবে।

টাইমলাইনঃ

ফুটেজকে পাশাপাশি বসানো এবং নির্দিষ্ট অংশ বাদ দেয়া থেকে শুরু করে এডিটিং এর অধিকাংশ কাজ করা হবে টাইম লাইনে। বিন থেকে ভিডিওকে টাইমলাইনে আনার জন্য তাকে ড্রাগ করে আনতে হবে। প্রতিটি ট্রাককে ফটোশপের লেয়ারের সাথে তুলনা করতে পারেন। Video 1 নামের ট্রাকটি একেবারে নিচে, এরপর ক্রমাম্বয়ে ওভারলে ট্রাক হিসেবে কাজ করবে। যেমন ভিডিওর ওপর টেক্সট ব্যবহার করতে হলে ভিডিওকে Video 1 রেখে টেক্সটকে Video 2, Video 3 ইত্যাদি ট্রাকে রাখতে হবে।

শুধুমাত্র অডিও টাইমলাইনে ব্যবহারের জন্য নিচের অংশ (Audio 1, 2, 3) ব্যবহার করতে হবে।

টাইমলাইনে ড্রাগ করে ক্লিপকে যে কোনদিকে সরানো যাবে কিংবা এক ট্রাক থেকে আরেক ট্রাকে নেয়া যাবে।

প্রিভিউঃ

টাইমলাইনের ওপরের অংশে নিল রঙের স্লাইডার সরালে সেই অংশের ভিডিওর প্রিভিউ দেখা যাবে প্রিভিউ উইন্ডোতে। এখানে ভিসিআর এর মত বাটন ব্যবহার করেও প্রিভিউ দেখা যাবে।

এছাড়া, নির্দিষ্ট ক্লিপ থেকে সামনের বা পেছনের অংশ বাদ দেয়ার কাজ করা যাবে এখান থেকে।

টুলসঃ

বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য টুল রয়েছে টুলবক্সে। ভিডিওর নির্দিষ্ট যায়গায় কাটার জন্য কিংবা, জুম, প্যান ইত্যাদি কাজের টুল  সিলেক্ট করতে হবে এখান থেকে।

কোন টুলের ওপর মাউস পয়েন্টার রাখলে সেই টুলের নাম জানা যাবে।

টুলবক্সের ওপরে অডিও মিটার রয়েছে। প্লে করার সময় অডিওর ভলিউম লেভেল জানা যাবে এখান থেকে।

ইফেক্টস এবং ট্রানজিশন প্যানেলঃ

ভিডিও কিংবা অডিওর জন্য ইফেক্ট অথবা ট্রানজিশন ব্যবহার করতে হবে ইফেক্টস প্যানেল থেকে। ভিডিও ইফেক্ট, অডিও ইফেক্ট এবং ট্রানজিশন এদেরকে ভাভাগ করে রাখা হয়েছে এখানে। নতুন ইফেক্ট ইনষ্টল করলে সেটা এখানে যোগ হবে। এখানে সার্চবক্সে টাইপ করে খুব সহজে নির্দিষ্ট ইফেক্ট খুজে বের করা যায়।

কোন ইফেক্ট ব্যবহার করার জন্য সেটা ড্রাগ করে টাইমলাইনে নির্দিষ্ট ক্লিপের ওপর ছেড়ে দেয়াই যথেষ্ট।

ইফেক্টস কন্ট্রোলঃ

কোন ইফেক্ট ব্যবহার করার পর তার নানারকম সেটিং পরিবর্তনের জন্য ইফেক্টস কন্ট্রোল প্যানেল ব্যবহার করা হয়। ব্যবহার করা সবগুলো ইফেক্ট এর নাম এবং বৈশিষ্টগুলো এখানে পাওয়া যাবে।

প্রিমিয়ারের বিভিন্ন প্যানেল প্রয়োজন অনুসারে বড়ছোট করা বা সরানো যায়। কাজেই সবসময় এখানে দেখানো ছবির মত থাকবে এমন কথা নেই।

কিছু কাজ করে দেখা যাকঃ

  • ফুটেজ উইন্ডোতে রাইট-ক্লিক করে ইমপোর্ট সিলেক্ট করুন এবং ভিডিও, অডিও, ইমেজ ইত্যাদি ইমপোর্ট করুন।
  • একটি ভিডিও ক্লিপকে ড্রাগ করে টাইমলাইনে আনুন। কিবোর্ডে ব্যাকস্লাশ চাপ দিয়ে অথবা টাইমলাইনের নিচের স্রাইডার ব্যবহার সুবিধাজনক জুম ব্যবহার করুন।
  • স্পেসবার চাপ দিয়ে ভিডিওটি প্লে করে দেখুন
  • আপনি হয়ত ভিডিও ক্লিপের শুরু থেকে কিছু অংশ বাদ দিতে চান। সহজে কাজটি করার জন্য ক্লিপকে টাইমলাইনে একেবারে বাম থেকে কিছুটা ভেতরের দিকে সরিয়ে আনুন। যে ফ্রেম পর্যন্ত বাদ দিতে চান ঠিক সেখানে টাইম ইন্ডিকেটর (সিটিআই) আনুন। ক্লিপের বাম প্রান্তে মাউস পয়েন্টার আনলে তাকে একটি ব্রাকেটের মত দেখাবে, এই অবস্থায় ড্রাগ করে প্রান্তটিতে সিটিআই পর্যন্ত আনুন। কাছাকাছি এলে নিজেই সঠিক তারসাথে লেগে যাবে। মাউস ছেড়ে দিলে শুরু থেকে সেই পর্যন্ত বাদ যাবে। ক্লিপকে পুনরায় আগের যায়গায় সরিয়ে নিন।
  • ক্লিপের শেষ থেকে কিছু বাদ দেয়ার জন্য একই পদ্ধতিতে শেষপ্রান্ত ব্যবহার করুন।
  • প্রতিটি ক্লিপের প্রয়োজনীয় অংশগুলো ঠিক হলে সেগুলো টাইমলাইনে পাশাপাশি সাজান।
  • ভিডিওকে বড় কিংবা ছোট করার জন্য প্রিভিউ উইন্ডোজে সরাসরি ক্লিক করে ড্রাগ করুন। বড়ছোট করা, নির্দিস্ট যায়গায় সরানো ইত্যাদি করা যাবে খুব সহজেই।
  • ট্রনজিশন ব্যবহারের জন্য ইফেক্টস প্যানেল থেকে ট্রানজিশন ড্রাগ করে দুটি ক্লিপের মাঝখানে রাখুন। প্রয়োজনে ইফেক্টস কন্ট্রোল ব্যভহার করে পছন্দমত পরিবর্তন করে নিন।
  • ভিডিও ইফেক্ট বা ফিল্টার (যেমন আলো বাড়ানো বা কমানো) ব্যবহারের জন্য ফিল্টারটি ড্রাগ করে নির্দিষ্ট ক্লিপের ওপর এনে ছেড়ে দিন। ইফেক্টস কন্ট্রোল থেকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নিন।
  • ওভারলে হিসেবে ক্লিপ, ইমেজ বা টেক্সট ব্যবহারের জন্য তাকে ভিডিওর ওপরের কোন ট্রাকে রাখুন। এর ট্রান্সপারেন্ট অংশ দিয়ে নিচের ক্লিপ দেখা যাবে।
  • কোন ভিডিওকে ওভারলে ট্রাকে রেখে ছোট করে আরেকটি ভিডিওর ওপর পিকচার ইন পিকচার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • মিউজিক বা অডিও ব্যবহারের জন্য তাকে টাইমলাইনে অডিও ট্রাকে আনুন এবং সুবিধাজনক যায়গায় সরিয়ে ভিডিওর সাথে মিল করুন।

ফাইনাল ভিডিও তৈরীরেন্ডার করাঃ

ভিডিওর সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার শেষ কাজ হচ্ছে তাকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটের ভিডিও ফাইলে পরিনত করা। সাধারনভাবে এই প্রক্রিয়ার নাম রেন্ডারিং। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রিমিয়ার প্রোজেক্টের সাথে ব্যবহার করা ফুটেজগুলো সেভ হয় না। এক কম্পিউটারে তৈরী করা প্রোজেক্টকে কপি করে আরেক কম্পিউটারে নেয়ার সময় সবগুলো ফুটেজকে একইভাবে ফোল্ডারসহ কপি করতে হবে।

  • ফাইনাল ভিডিও তৈরীর জন্য মেনু থেকে সিলেক্ট করুনFile – Export – Media
  • আউটপুট নেম অংশে ক্লিক করে ফোল্ডার এবং ফাইলের নাম ঠিক করে দিন।
  • এক্সপোর্ট সেটিং ডায়ালগ বক্সে ফরম্যাট, প্রিসেট কিংবা ভিডিও-অডিওর জন্য বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করা যাবে।
  • সম্পুর্ন ভিডিও বদলে কিছু অংশ সিলেক্ট করে সেটুকু রেন্ডার করা যাবে। কিংবা চারিদিক থেকে বাদ দিয়ে পছন্দমত যায়গা ব্যবহার করা যাবে।
  • সবকিছু ঠিক করার পর ওকে বাটনে ক্লিক করলেই রেন্ডার হতে থাকবে।

ভিডিও রেন্ডারিং একটি সময়সাপেক্ষ কাজ। ভিডিওর ফরম্যাট, ব্যবহার করা ফিল্টার ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে এজন্য কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শক্তিশালি কম্পিউটার, অধিক মেমোরী, অপটিমাইজেশন সহ গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করলে দ্রুত কাজ করা যায়।

এডোবি প্রিমিয়ারের সবশেষ ভার্শন সিসি ২০১৯, এটা শুধুমাত্র ৬৪ বিট অপারেটিং সিষ্টেমে ব্যবহার করা যায়। আপনার কম্পিউটার যদি ৩২ বিট হয় তাহলে আগের কোন ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন।

আশা করি আমার লেখাটি পড়ে প্রিমিয়ার প্রো সম্পর্কে ভালো রকমের ধারণা পেয়েছেন। আমাদের এরকম ব্লগ পড়তে গ্রাফিক স্কুলের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment